শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

স্মরণে সুকান্ত কবিতায় আগুন জ্বালানো এক বিপ্লবী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৩ মে ২০২৫, ১৫:৪৯

আজ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৮তম প্রয়াণ দিবস। বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম এই কিশোর কবি, যিনি মাত্র একুশ বছরের স্বল্পজীবনে রেখে গেছেন অগ্নিগর্ভ সাহিত্যের এক অনন্য ভাণ্ডার।

১৯৪৭ সালের এই দিনেই যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে কলকাতার যাদবপুরে 'রেড অ্যান্ড কিওর হোম'-এ মৃত্যু হয় সুকান্তর। তবে মৃত্যুর বহু আগে থেকেই তাঁর কবিতা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন বিপ্লবের সুর বয়ে এনেছিল।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্ম নেওয়া সুকান্ত ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী ছিলেন। স্কুলজীবনে যুক্ত হন কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে। মার্ক্সবাদী ভাবনাকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক প্রগতিশীল সাহিত্যধারা, যার প্রতিটি পঙক্তি ছিল শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এক সরাসরি উচ্চারণ।

‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘হরতাল’—এইসব কাব্যগ্রন্থে উঠে এসেছে ঔপনিবেশিক শোষণ, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার তীব্র প্রতিবাদ।
তাঁর বিখ্যাত কবিতার পঙক্তি—
“ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”—

আজও পাঠকের হৃদয়ে ঝলসে ওঠে অনাহারের অনুপম চিত্ররূপ হিসেবে।

কবিতা শুধু তাঁর কাছে সৌন্দর্য নয়, ছিল প্রতিবাদের অস্ত্র। তিনি লিখেছিলেন—
“আমি কবিতা লিখি না, সমাজের জন্য লড়ি।”

এই বিশ্বাসেই গড়ে তুলেছিলেন সাহসী, সংগ্রামী এক কাব্যভাষা, যা বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনায় দারুণভাবে নাড়া দিয়েছিল।

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ কলকাতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবিতাপাঠ কেন্দ্র ও বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সুকান্তর কবিতা আবৃত্তি, স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে তাঁর কালীঘাটস্থ জন্মভবনে ও কবিতায় অমর করে তোলা বালিগঞ্জের অলিগলিতে।

বাংলা কবিতার এই কিশোর বিদ্রোহী মৃত্যুর ৭৮ বছর পরেও জীবন্ত এক অনুপ্রেরণা। আজও যেকোনো অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাইলে সুকান্তকে স্মরণ করতেই হয়—তিনি আমাদের চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর