প্রকাশিত:
১৯ জুন ২০২৫, ১৫:১১
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে জেলের ছদ্মবেশে মাদক পাচারের সময় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. জুবায়ের ও নূরুল আমিন নামে দুই মায়ানমার নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি।
বুধবার (১৮ জুন) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী নাফ নদী দিয়ে কতিপয় মায়ানমার নাগরিক মাছ ধরার ছদ্মবেশে ইয়াবার একটি চালান জেলের ছদ্মবেশে থাকা কতিপয় বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছে হস্তান্তরের করবে।
এসময় পরিস্থিতির বিবেচনায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে নাফ নদী ও তীরবর্তী বেশকিছু কৌশলগত স্থানে দ্রুত বিশেষ টহল মোতায়েন করেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে নদীতে একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি’র নৌ টহলদলগুলো তড়িৎ গতিতে তাদের পিছু ধাওয়া করে।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলেও নাফ নদীর জল সীমান্তের শূন্য রেখার আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবি আভিযানিকদল মায়ানমারের দুজন নাগরিকসহ পলায়নরত নৌকাটি আটক করে। পরবর্তীতে বিজিবি আভিযানিকদল নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাটাতনের নিচে জালের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো এবং মোড়কজাত অবস্থায় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলো— মায়ানমারের মংডু জেলার ডেইলপাড়া গ্রামের মো. ইলিয়াসের ছেলে মো. জুবায়ের (২০) এবং মৃত ইসলামের নুরুল আমিন (২২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা ইয়াবার চালানটি মায়ানমার থেকে এনে নদীতে মাছ ধরার অজুহাতে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি সহযোগীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিল।
আটককৃত মায়ানমার নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এর সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, বিজিবি সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার বন্ধসহ আন্তঃসীমান্ত সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিজিবির এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন: