প্রকাশিত:
২৪ জুন ২০২৫, ১৮:১২
বর্তমান সময়ের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। মডেলিং দিয়ে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখার পর একাধিক নাটকে অভিনয় করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে বেশ চমক দেখিয়েছেন এ অভিনেত্রী। ঈদে এসেছে তাঁর অভিনীত নাটক।
বড় পর্দায় দেখেছেন ঈদের ছবি। ফিরছেন লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনেও। গতকাল বিকেলে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন কামরুল ইসলাম।
ক্যাম্পেইনে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করা হয়েছে। তার বাড়িতে আমরা গিয়েছি। কিছু উপহার দিয়েছি। বসে গল্প করেছি।
এই তো। একটি গ্রামে গেলেন, সেখানে সাধারণ মানুষজন ঘিরে ধরল। তাদের সঙ্গে নানা কথাও হলো।
মুহূর্তটা কেমন ছিল?
অনেক ভালো। ঈদের লম্বা ছুটি ছিল। এই ক্যাম্পেইন দিয়েই কাজে ফিরলাম। সাধারণ মানুষের এমন কৌতূহল, ঘিরে ধরা এসব তো সাধারণত শুটিংয়ে দেখি। এবার ভিন্ন একটা কাজে দেখলাম।
আগে থেকেই তারা জানত, আমি যাব। তো একজন আরেকজনকে খবর দিয়েছেন, অনেকেই এসে ভিড় করেছিলেন। বিশেষ করে মেয়েরা। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, ছবি তুলেছি। তারা আমার বিভিন্ন নাটকের কথা বলছিল। এসব দেখে সত্যিই ভীষণ ভালো লেগেছে। কেউ যখন কাজ নিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে, এটা তো ভালোলাগার।
সো, ইট ওয়াজ আ গুড এক্সপেরিয়েন্স।এর মধ্যে অবকাশে বিদেশে গিয়েছিলেন? না। বিদেশ যাওয়া হয়নি। দেশেই ছিলাম। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করলাম। পরিবারের সঙ্গে ঘুরেছি, আনন্দ করেছি। খুব সুন্দর সময় কেটেছে।
ঈদের ছবি দেখেছেন?
হ্যাঁ, ‘তাণ্ডব’ দেখেছি। অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে শেষের অর্ধেক ভালো লেগেছে। এত টুইস্ট। আর আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে জয়া [জয়া আহসান] আপুকে। শি ইজ টু প্রিটি। আমি বন্ধুদের বলছিলাম, একটা মানুষ এত সুইট হয় কিভাবে! আরেকটা ছবি দেখার ইচ্ছা আছে-‘উৎসব’। দু-এক দিনের মধ্যে দেখে ফেলব।
আপনার নাটকের প্রসঙ্গে আসি। আপনার ফেসবুক পেজ ঘুরে দেখলাম, মোটে দুটি নাটক এলো ঈদে! এত কম কেন?
কাজ তো করেছি। কিন্তু মুক্তি পায়নি। আসলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্পন্সর সংকটে ভুগছে। এ কারণে অনেক কাজ আটকে আছে। এবার সামগ্রিকভাবেই নাটকের চাহিদা কম। ঈদের খুব বেশি নাটক কিন্তু সাড়া জাগাতে পারেনি।
সংকটের কারণটা ঠিক কী?
আমিও বুঝতে পারছি না। তবে মন্দ সময় তো থাকেই। যেকোনো ক্ষেত্রেই আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে। এখন মানুষ দেশ নিয়ে চিন্তিত। নাটকের প্রতি অত মনোযোগ নেই।
সম্প্রতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্মাণে একটি বিজ্ঞাপনচিত্র এলো। কবে করেছিলেন এটা?
বছর দুয়েক আগে করেছিলাম। অবশেষে প্রচারে এলো। তখন আমার নতুন ক্যারিয়ার। ওরকম সময়ে ফারুকী ভাইয়ের মতো নির্মাতার বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করা সত্যিই বড় ব্যাপার ছিল। তা ছাড়া তিনি বিজ্ঞাপনচিত্র খুব কমই নির্মাণ করেন। ফলে এ কাজটি আমার জন্য স্পেশাল। তিশা আপুও আছেন, তিনিও বেশ সহযোগিতা করেছিলেন। শুটিংয়ের পর ভারত থেকে বিজ্ঞাপনচিত্রটির সম্পাদনা-কালার গ্রেডিং করানো হয়েছিল। পরে ফারুকী ভাই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘সামিরা, তুমি খুব ভালো করেছ।’ তাঁর মতো নির্মাতার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়াও তো দারুণ ব্যাপার।
শুটিংয়ে ফিরবেন কবে?
আলী বশিরের একটি নাটকের শুটিং করব। চিত্রনাট্য পাঠিয়েছে। ২৭ ও ২৮ জুন শুটিং। এতে আমার সহশিল্পী আরশ খান।
নাটকের কাজ কি এমনিতে কমে গেছে? নাকি ইচ্ছাকৃত কম করছেন, পাশাপাশি অন্য কিছুতে মনোযোগী হচ্ছেন?
আমিও একটু বাছবিচার করেই কাজ করছি। এ কারণে নাটকের সংখ্যা কম। এর পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েশন চলছে। নিয়মিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করছি।
ওয়েব বা চলচ্চিত্রে কিছু করছেন?
দেখুন, নাটকেই ঠিকমতো স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়েব কনটেন্টের বাজেট তো আরো বেশি। ওয়েব বা সিনেমায় কিছু করছি না আপাতত। করলে তো অবশ্যই জানাব।
অভিনয়ে নিজেকে পরিণত করার জন্য কী করেন?
ইদানীং নাচ শেখায় সময় দিচ্ছি। আর অভিনয়ের জন্য তেমন কোনো প্রশিক্ষণ তো নিইনি। তবে প্রতিটি কাজের আগেই হোমওয়ার্ক করি, চরিত্র নিয়ে চর্চা করি। এ ছাড়া বাসায় ভালো ভালো ছবি দেখি, ভালো শিল্পীদের অভিনয় দেখে নিজেও কিছুটা রপ্ত করার চেষ্টা করি।
মন্তব্য করুন: