প্রকাশিত:
২৮ জুন ২০২৫, ১৬:৫৪
মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য বন্ধুকে হত্যা করেছে আরেক বন্ধু। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায়। বন্ধু সাধন চন্দ্র রায়কে (২৫) হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে মনোজিৎ রায় (২৫) ওরফে মম। তারা একে অপরের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল।
আজ শনিবার (২৮ জুন) আসামির স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে, নিহত সাধন চন্দ্র রায়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সকাল ১১টায় বোচাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর ঈশানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় দিনাজপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ঘটনার চারদিন পর শুক্রবার (২৭ জুন) মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাও থেকে হত্যাকারী মনোজিৎ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত সাধন চন্দ্র রায় ও অভিযুক্ত মনোজিৎ রায় ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। গত ৩ মে মনোজিৎ সাধনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন। কথা ছিল একমাস পর ৩ জুন অতিরিক্তি ১ হাজার টাকাসহ ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দেয়নি মনোজিৎ।
পরে বিষয়টি সাধনের পরিবারের মাঝে জানাজানি হয়।
পরে সাধনের মা ছেলেদের টাকা ধার দেয়ানেয়ার বিষয়টি মনোজিতের মাকে জানায়। এতে মনোজিৎ রায়কে তার মা বকাঝকা করেন। এ নিয়ে মনোজিৎ রায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার (২৩ জুন) রাতে সাধনকে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মনোজিৎ রায় পাশে পড়ে থাকা বাশের লাঠি দিয়ে সাধন চন্দ্র রায়ের মাথায় আঘাত করে।
এতে ঘটনাস্থলেই সাধন চন্দ্র রায় মারা যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘটনা চাপা দেয়ার জন্য সাধন চন্দ্র রায়ের মরদেহ ও তার মোটরসাইকেলটি পুকুরে ফেলে দেয়। এই ঘটনা পুলিশের কাছে স্বীকার দেন মনোজিৎ।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, অপরাধ করে কেউ দিনাজপুরে পার পাবে না। আমরা প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিফাত-ই-রাব্বানী, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার।
মন্তব্য করুন: