প্রকাশিত:
৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৭
বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মুক্তির সূর্য উঠবে বলেও। এদিকে নাগরিকক্ষের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এই সরকারের ব্যর্থতার সীমান নেই। সরকার কোনো ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা ফেরাতে পারেনি।
নির্বাচনের সময় নিয়ে ধোয়াসা কাটেনি। জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায়ও অগ্রগতি সামান্য। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনমুখী চলছে আলোচনাও।
সমসাময়িক রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনায় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে 'রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ' শীর্ষক টকশোতে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামাত ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান ও দ্য ফাইনান্সিয়াল পোস্ট পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এমএ আজিজ।
এই কালো মেঘের আনাগোনাটা আসলে কী? এই মেঘটা তৈরি করল কে? এমন প্রশ্নে এমএ আজিজ বলেন, 'আমার মনে হয় জামাতের আমির ঠিকই বলেছেন। কারণ লন্ডনে যে বৈঠক হলো দুইজনের ভিতরে তখন কিন্তু এক ঘন্টা ২০ মিনিট কথা হয়েছে। কিন্তু যেটা স্টেটমেন্ট আসছে, তাতে পাঁচ মিনিটের আলোচনা বলে মনে হয়। অর্থাৎ, ভেতরে নিশ্চয়ই কোনো আলোচনা হয়েছে উভয় পক্ষের, আমরা কিছু জানি না।
দ্বিতীয়ত ওখানে কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেছিলেন, ইলেকশনের ডেট দেবে ইলেকশন কমিশন। এরপর দীর্ঘদিন প্রধান উপদেষ্টা আর নির্বাচন নিয়ে কোনো মুখ খোলেন নাই। পরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চিফ ইলেকশন কমিশনার দেখা করেন। দেখা করার পরেও দুইজনের কেও মুখ খোলেন নাই। পরে চিফ ইলেকশন কমিশনার বলছেন ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রস্তুতি, তিনি এখনো নির্বাচনের কথা কিন্তু বলেন নাই। অর্থাৎ লন্ডনের বৈঠকে তখনও যে কথা বলছে ইফ, অর্থাৎ, যদি, এইটা হয়, অমক হয়, তমক হয়, শর্তযুক্ত সব কথা বলেছেন। সুতরাং প্রধান উপদেষ্টাতো কখনো একটা গণতান্ত্রিক দেশে তিনি তো একাউন্টেবল নিজেকে মনে করে না। তিনি সবচেয়ে গোপন রাখেন যেমন মাহমুদুর রহমান মান্নার কথা বললেন। তিনি একটা টেলিভিশনে আমার সামনে বলেছেন যে প্রধান উপদেষ্টা অনেক সময় বক্তব্য দেন। অনেকের বক্তব্য শোনেন, প্রশ্ন করলে মিটিমিটি হাসেন। তিনি কোন উত্তর দেন না এটা কেমন কথা বলেন। একটা গণতান্ত্রিক দেশের প্রধান উপদেষ্টা উত্তর দিবে না। তারপরে দেখেন প্রথম দিকে তিনটা পত্রিকায় আমাদের এখানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
এখন সবসময় বিদেশের পত্রিকায় সাক্ষাৎ দেন। বিদেশী টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেন। ওখানে দিয়ে আওলা বাজায় দেয়। আপনি দেখেন, প্রথমে যেটা হলো এই যে গণঅভ্যুত্থানটা ঘটে গেল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দল সব মত জনগণ সবাই কিন্তু সমর্থক ছিল। এই এইটারে দলাদলি করাটা আমি মনে করব প্রধান উপদেষ্টা নিজে তৈরি করেছেন। আপনি দেখেন জাপানে গিয়ে বললেন একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। পরে সবাইকে ডেকছেন। আটটা দল অংশগ্রহণ করেছে। ২৫টা দলই বলছে ডিসেম্বরের নির্বাচন চায়। তখন তো নির্বাচনের কথা বলতে পারতেন। বলেন নাই।'
বাংলাদেশ জামাত ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, 'আমি আমার আলোচনার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। বাংলাদেশ জামাত ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেছেন রাজনীতির আকাশে কালোমেঘ। তবে মুক্তির সূর্য উঠবেই। উনি একদিকে যেরকম যা দেখতে পাচ্ছেন সেটাকে মিন করেছেন। আবার এটার থেকে যে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের জনগণ ঘুরে দাঁড়াবে এটা তিনি খুব সুস্পষ্টভাবে বলছেন। হতাশা ব্যক্ত করেন নাই।
তিনি এই চ্যালেঞ্জটা বাংলাদেশের জনগণ মোকাবেলা করবে এটাকে সুস্পষ্ট করেছেন। কেন কালোমেঘ এটা আমাদের খুব সুস্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। আপনারা জানেন যে লন্ডনে বৈঠকের কথা আমাদের আব্দুল আজিজ ভাই বলেছেন, বৈঠকে মনে হয়েছে পাঁচ মিনিটের বৈঠক হয়েছে কিন্তু আসলে বৈঠকতো দুই ঘণ্টা হয়েছে। আর কি হয়েছে এটা কিন্তু বিএনপিও স্পষ্ট করেনি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবসহ কেউই বলেননি।
আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশে ফিরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে অথবা প্রেস উইং থেকে এই বিষয়টাকে সুস্পষ্ট করা হবে। কিন্তু সেটা করা হয়নি। কেন কালোমেঘ আজকে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা যদি আপনি ৫ই আগস্টের পর থেকে খুলে দেখেন, তাহলে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ তারপরে দখল বাণিজ্য এগুলো মহামারীতে রূপ নিয়েছে। এবং একটি দল সেই কারণে নিজের কর্মীদের প্রায় চার-পাঁচ হাজার জনকে শাস্তি দিয়েছে। এই যে শাস্তি দিলেন, তারা কিন্তু এই শাস্তি দেওয়ার পরও এটাকে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। তাহলে যে দল ক্ষমতায় যাওয়ার আগে নিজ দলের লোকদের এই চাঁদাবাজি দখলবাজি কন্ট্রোল করতে পারে না। তারা ক্ষমতায় চলে গেলে কিভাবে এই দেশটাকে মানে এই সমস্ত খারাপ আচরণ থেকে মানুষের দুর্দশা থেকে অনৈতিক কাজ থেকে কন্ট্রোল করবেন এটা জনমনে প্রশ্ন রয়েই যায়।
আপনি দেখেছেন যে গত কয়েকদিন আগেই লালমনিরহাটে যে ঘটনাটি থানা ঘেরাও করে সেখানে যে পুলিশদেরকে আহত করে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে আসে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদেরকে ছিনতাই করে নিয়ে আসা হয়েছে।
এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে একটা থানার ভিতরে ঢুকে যদি আসামি ছিনতাই করে নিয়ে আসা হয় তাহলে নির্বাচনের ব্যালট বাক্স কিভাবে নিরাপদ থাকবে? এটাই তো রাজনীতির আকাশে একটা বড় কালোমেঘ। এর পাশাপাশি চলছে আপনারা দেখছেন যে দিনে দুপুরে অনেকটা রাত্রে বেলায় বা ঢাকা শহর তো রাতও তো দিনের মতোই একজন যুবদল নেতার নেতৃত্বে হোটেল জাকারিয়াতে যেভাবে তান্ডব চালানো হলো, এটা তো জাতি খুব সুস্পষ্টভাবে দেখছে।
আর কালোমেঘটা কেন? যে যদি সংস্কার না হয়, বিচার না হয়, জুলাই স্রোত ঘোষণা হয় না হয়, এবং রাজনীতিতে যদি আবার স্বৈরাচার হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়, যাতে করে যদি শুধু একটা নির্বাচন দিয়েই ক্ষমতার দলের পরিবর্তন ঘটানো হয়, যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি কালচার এবং ক্যারেক্টারের কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে তো এই রাজনীতিতে কালোমেঘ থেকেই যাবে।
সেই জায়গাতে দেখেন সিসি কি বললেন, আমি পয়েন্টটা একটু বলি, ধরেন সংস্কার হলো, আমি আপনাকে ইন্টারাপ্ট করতেছি না একটা অ্যাডিশনাল প্রশ্ন করতে সংস্কার হলো কিন্তু স্বৈরাচারের পথ আপনি বন্ধ করবেন কিভাবে? হ্যাঁ স্বৈরাচারের পথ বন্ধ করার জন্যই আমরা বলছি যে প্রত্যেকটা দলকে যে মৌলিক সংস্কার যদি হয়ে যায় তাহলে সেখানে স্বৈরাচারের পথ বন্ধ হবে। তার কারণেই আমরা বলছি যে পিয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে বাংলাদেশের স্বৈরাচারের পথ অনেকটাই আমরা মনে করি যে অনেকটাই কি হবে? এটা বন্ধ হবে। এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিশেষ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেগুলো আছে মানবাধিকার কমিশন. পিএসসি থেকে শুরু করে নিয়ে বিচার বিভাগ যেগুলো আছে মানে যেগুলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সেগুলোকে যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পৃথক করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসম্য করা হয় তাহলে আমার মনে হয় যে এই জায়গাটা অবশ্যই মানে একটা যৌক্তিক জায়গায় চলে আসবে।
দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা যে নৌরাজ্য এটা আমি বলছি না যে একটা নির্বাচনের মাধ্যমেই পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। তবে যদি এটা ৮০ ভাগ ৯০ ভাগ কমে আসে, তাহলে এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অনেক বড় সফলতা। আপনি দেখেন আমি একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম যে সিসি বলে দিলেন যে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত না। যখন কয়েকটা দল আমরাসহ বলছে যে আমাদের কি দরকার? স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে দেন।
দেওয়ার মাধ্যম দিয়ে আপনি যে সুষ্ঠ নির্বাচন করতে পারবেন এটার প্রমাণ দেন। এটার পরের দিনই উনি বলে দিলেন কি? যে, আমরা এটার জন্য প্রস্তুত না। বোঝা যাচ্ছে উনি কোনো একটা দল বা গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।
আর প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির সঙ্গে আলাপ করেই যে নির্বাচনী টাইম ঘোষণা করেছেন, এটাতেই আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। যে উনি এই টাইমেই ঘোষণা করতেন। কিন্তু যৌথ সংবাদ সম্মেলনে করার কারণে জনমনের সন্দেহটা বেড়েছে। এইজন্য কালোমেঘ। তবে বাংলাদেশের মানুষ যেহেতু জুলাইতে রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে যে আমরা কোন স্বৈরাচারী দখলবাজি চাঁদাবাজি আমরা মানি না প্রয়োজনে আবার জুলাই যোদ্ধারা এদেশের সাধারণ মানুষ এটাকে রুখে দাঁড়াবে।'
মন্তব্য করুন: