প্রকাশিত:
১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:১৬
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার পাঁচবাগ ইউনিয়নের দুইটি গ্রাম থেকে গত শুক্রবার (১১ জুলাই) নিখোঁজ হয়েছিল ৫ ও ১০ বছর বয়সের দুই শিশু। এরপর দুই শিশুর পরিবারের কাছে দফায় দফায় মুক্তিপণও চাওয়া হয়। সন্তান ফিরে পেতে মুক্তিপণ দিলেও নিখোঁজের পরদিন বাড়ির অদূরে মেলে ১০ বছরের শিশু সিফাতের মরদেহ। সিফাতের পর আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরেও আয়মান (৫)-কে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে জঙ্গলের পাশে।
জানা যায়, গফরাগাঁয়ের পাগলা থানার ওই ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রাম থেকে গত শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় নিখোঁজ হয় ওই গ্রামের সুলতান মিয়ার নাতি আয়মান। সে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের আকন্দবাড়ির প্রবাসী আল-আমীন আকন্দের ছেলে। এর কিছু সময় পর নিখোঁজ হয় স্থানীয় অতারবাড়ি চর শাঁখচুড়া গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে সিফাত মিয়া। এ অবস্থায় দুই পরিবারই ব্যাপক খোঁজ করেও না পেয়ে পাগলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।
এর মধ্যে দিনে ও রাতে কয়েক দফায় একটি চক্র ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে। কিছু টাকা দেওয়ার পর দুই শিশুকে ভিডিওকলে দেখার শর্ত দিলে বেঁকে বসে ওই চক্র। এরপর ফোন বন্ধ করে ফেললেও থেমে থেমে মুক্তিপণ চাওয়া অব্যাহত রাখে। নিখোঁজের এক দিন পর গত রবিবার (১৩ জুলাই) ভোরে ১০ বছর বয়সের শিশু সিফাতের মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির কাছের এক পুকুরে।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ভোরে আয়মানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী জানান, দুই শিশু নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তারা যথাসময়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
গফরগাঁও পাগলা থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের দুদিন আগে হত্যা করা হয়েছে। দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন: