প্রকাশিত:
২৪ জুলাই ২০২৫, ১৩:৩৬
কাম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ সীমান্তজুড়ে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সামরিক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া কাম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে থাই পুলিশ। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।
এই সহিংসতায় বেসামরিক এলাকাগুলোকেও টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে থাইল্যান্ড।
থাইল্যান্ডের সিসাকেত প্রদেশের কানথারালাক জেলার প্রধান থাই পাবলিক ব্রডকাস্টার পিবিএস-কে জানান, কাম্বোডিয়া সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বান নাম ইয়েন এলাকায় একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে রকেট আঘাত হানে, এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
থাই সামরিক বাহিনীর বরাতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সময় সুরিন প্রদেশে অবস্থিত প্রাচীন ও বিতর্কিত ‘তা মুয়েন থম’ মন্দির এলাকা থেকে সংঘর্ষের সূচনা হয়। এলাকাটি থাইল্যান্ডের অন্তর্গত হলেও কাম্বোডিয়াও এটি নিজের বলে দাবি করে। প্রথম গুলি চালানোর অভিযোগ উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছে।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর তা ছড়িয়ে পড়ে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন এলাকায়, যার মধ্যে রয়েছে সুরিন প্রদেশ, সিসাকেত এবং উবোন রাতচাথানি। এই সংঘর্ষে হালকা অস্ত্রের পাশাপাশি ভারী অস্ত্রও ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই সেনাবাহিনী। যদিও কম্বোডিয়া ছয়টি সংঘর্ষস্থল স্বীকার করেনি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকাই ‘কাম্বোডিয়ার ভূখণ্ডের মধ্যে পড়ে এবং সেখানে আমাদের সেনারা সক্রিয়ভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে।
’সীমান্তে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ড দাবি করেছে, কাম্বোডিয়ান সেনারা সুরিন প্রদেশের কাপ চোয়েং জেলায় বেসামরিক এলাকায় দুটি বিএম-২১ রকেট নিক্ষেপ করে। এতে তিনজন সাধারণ মানুষ আহত হন। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছে, কাম্বোডিয়ার হামলা অব্যাহত ছিল, এমনকি ফানোম ডং রাক হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের হামলায় আরো প্রাণহানি ও থাই জনগণের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
’এদিকে কম্বোডিয়া পাল্টা অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ে দুটি বোমা ফেলে। তবে এ ঘটনায় কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো হতাহতের তথ্য জানানো হয়নি। সীমান্ত পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন: