প্রকাশিত:
৭ আগষ্ট ২০২৫, ১২:০২
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেছেন, সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিদ্যমান। শুধু হাসিনা দেশ ছেড়েছে, এটাই আমাদের একমাত্র প্রাপ্তি হতে পারে না। নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে না পারলে এই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। আজ বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের কাছে গত এক বছরে যেসব প্রত্যাশা ছিল কিন্তু পূরণ হয়নি সেই তালিকাও দিয়েছেন তিনি। রাশেদ খান লিখেছেন— সরকারের কাছে ১ বছরে যা যা প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু হয়নি:
১. সারা দেশের আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং সর্বত্র তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।
২. শেখ পরিবারের কেউ ধরা পড়েনি।
৩. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ গত ১৬ বছরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবির যারা গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে, তারা চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার হয়নি।
৪. প্রশাসনের যারা হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানাতে সহযোগিতা করেছে সেসব সচিব, ডিসি, এসপিরা গ্রেপ্তার হয়নি।
৫. পুলিশ ও প্রশাসনের কোনো সংস্কার হয়নি। এখনো তদবির বাণিজ্য, ঘুষ, দুর্নীতি সবই চলছে।
৬. যে এনএসআই, ডিজিএফআই আয়নাঘর বানিয়েছে, ৩টা অবৈধ নির্বাচন করেছে, গুম-খুন করেছে, সেই গোয়েন্দা সংস্থার ন্যূনতম সংস্কার ও দোষীরা শাস্তির আওতায় আসেনি।
৭. গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের ক্যাডার যারা শিক্ষক হিসেবে ও এডমিনিস্ট্রেশনে ঢুকেছে তারা বহাল তবিয়তে।
৮. ১৬ বছরে যারা অবৈধ নিয়োগ পেয়েছে, তারা চাকরিচ্যুত হয়নি।
৯. যে মিডিয়া হাসিনার তোষামোদি করত, যে সাংবাদিকরা হাসিনার ফ্যাসিবাদের সহযোগী, সেই গণমাধ্যমের কোনো সংস্কার হয়নি।
১০. বিচারবিভাগ, সচিবালয়, বিভিন্ন দপ্তর ও সেক্টর এবং স্থানীয় প্রশাসনে আওয়ামী সেটাপ পুরোপুরি বহাল।
সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
১১. ব্যক্তি সংস্কার বা জাতিকে কাউন্সিলিং করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৬ বছরে আমাদের প্রজন্ম ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে বেড়ে উঠেছে, তাদেরকে মেন্টাল কাউন্সিলিংয়ের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
১২. শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের আমূল পরিবর্তনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ না করায় সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিদ্যমান। শুধু হাসিনা দেশ ছেড়েছে, এটাই আমাদের একমাত্র প্রাপ্তি হতে পারে না। নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে না পারলে এই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।
মন্তব্য করুন: