প্রকাশিত:
২০ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:০৮
লিভারের ওপর মেদ জমাকে বলা হয় ‘ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’। এটি দুই ধরনের হয়। একটি হলো, মেটাবলিক ডিসফাংশন-সম্পর্কিত এবং অন্যটি হলো অ্যালকোহল-সম্পর্কিত। এর ফলে হজমে সমস্যা হওয়া, বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেটে অস্বস্তিসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ফ্যাটি লিভারের অন্যতম মূল কারণ হলো স্থূলতা বা ওবেসিটি। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অ্যালকোহল, বেহিসেবি খাওয়াদাওয়ার কারণেও এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস, খারাপ কোলেস্টেরল বেশি থাকলেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হতে পারে।
ফ্যাটি লিভার ডিজিজের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণ হলো পেটের ওপরের ডান পাশে ব্যথা ও অস্বস্তি। এই রোগের কারণে শরীরের ৪টি অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। সেগুলো হচ্ছে—পা, গোঁড়ালি, লিভার ও পেট।
যদি দীর্ঘদিন ধরে পা ফুলে থাকে, তবে তা লিভারের রোগের একটি লক্ষণ হতে পারে। এতে অবহেলা করা যাবে না।
গোঁড়ালি ও পায়ে ফোলা লিভারের রোগের উপসর্গ হতে পারে। ফুলে যাওয়া শিরাগুলোতে চাপ সৃষ্টি হয় এবং তা কিডনির দিকে রক্তপ্রবাহে বাধা দেয়। ফলে কিডনি শরীর থেকে বাড়তি তরল পরিশোধন করে বের করে দিতে পারে না।
লিভারের রোগে বুকের দেয়াল বা পেশি বেড়ে যেতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে এমনটা হয়।
লিভারের রোগের অন্যতম উপসর্গ হলো পেটে পানি জমে যাওয়া। লিভারের রক্তনালিতে প্রদাহের কারণে সেগুলোর মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়। এই কারণে লিভারের রক্তনালি থেকে তরল বের হয়ে পেটে জমতে থাকে। ফলে পেট ফেঁপে যায়, ব্যথা হয়।
‘ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’-এর মোকাবেলা করতে কোন কোন খাবার খাবেন, তা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।কাঁচা হলুদ : কাঁচা হলুদ লিভার থেকে ফ্যাট বের করে দেয়। তবে কাঁচা হলুদ থেঁতো করে খান, রান্না করবেন না।
কফি : কফি লিভার থেকে ফ্যাট বের করে দেয়।
শস্যদানা : কম মাত্রায় চিনি আছে, এমন শস্য খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন বাজরা, রাগি। তবে বেশি গম খাবেন না। গম রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে বাজরা, রাগি, ছাতু রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
কালো ছোলা : কালো ছোলা লিভারের জন্য সবথেকে উপকারী। তবে খোসা ছাড়িয়ে খাবেন না। আখরোট : লিভারের জন্য খুব উপকারী এই বাদাম। প্রতিদিন ৩০ গ্রাম আখরোট খান। মাছ থেকে যে পুষ্টি মেলে, সেই পুষ্টি-ই পাওয়া যায় আখরোট থেকে।
আপেল : আপেলে থাকে ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ভিটামিন কে, কপারের মতো পুষ্টিকর উপাদান। আপেলে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া, যা শরীরকে অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত করে। তবে আপেলে খোসা ফেলে দেবেন না, কারণ এটি পুষ্টির ভাণ্ডার।
মন্তব্য করুন: