প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সাবেক বিচারক ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও মারা গেছেন। ‘বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ হিসেবে খ্যাত এই বিচারক ন্যায়বিচার, করুণা এবং নিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত। আদালত কক্ষে তার প্রজ্ঞা এবং দয়া দিয়ে বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা ক্যাপ্রিওর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ‘কট ইন প্রভিডেন্স’ নামের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, আদালত শুধু বিচারের কক্ষ নয়, বরং মানবিকতা ও সহমর্মিতার স্থানও হতে পারে। মামলার শুনানির সময় তিনি জরিমানা কমিয়েছেন কিংবা শাস্তি দিলেও অসাধারণ সহানুভূতির ছাপ রেখেছেন।
মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তখন তিনি সবার কাছে প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছিলেন।
তার আদালতের রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠানগুলোতে দেখা যেত, সাধারণ নাগরিকদের ছোটখাটো অপরাধ—যেমন সিগন্যাল না দেওয়া, কিংবা উচ্চ শব্দে পার্টি করার মতো অভিযোগে হাজির হতে। তবে ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও প্রায়ই এসব মামলায় রসিকতা, সহমর্মিতা ও মানবিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সবার মন জয় করে নিতেন।
অনলাইনে তার শো-এর ক্লিপস এক বিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। অন্যান্য বিচারকদের মতো কঠোর ও সংঘর্ষমূলক না হয়ে, তিনি গড়ে তুলেছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ব্যক্তিত্ব—যেখানে ন্যায়বিচার ও মানবিকতা পাশাপাশি চলে।
ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও তার খ্যাতিকে ব্যবহার করেছিলেন ন্যায়বিচার ব্যবস্থার অসম প্রাপ্যতা নিয়ে আলোচনার জন্যও। ফলে তিনি শুধু একজন বিচারক হিসেবেই নন, বরং একজন মানবিক কণ্ঠ হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
রোড আইল্যান্ডের গভর্নর ড্যান ম্যাককি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিচারপতি ক্যাপ্রিও শুধু জনগণের সেবা করেননি, তিনি তাদের সঙ্গে অর্থবহ সম্পর্কও গড়ে তুলেছিলেন, আর মানুষ তার আন্তরিকতা ও সহানুভূতির প্রতি সাড়া না দিয়ে পারেননি। তিনি কেবল একজন বিচারক ছিলেন না — তিনি ছিলেন মানবিকতার প্রতীক, যিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে ন্যায়বিচার যখন মানবিকতার সঙ্গে মিশে যায়, তখন সবকিছুই সম্ভব।
মন্তব্য করুন: