প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:৩১
ইরানে গতকাল বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত আরো এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ এই খবর জানিয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে আরেকটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র দুই দিন পর। সাধারণত ইরানে মৃত্যুদণ্ড কারাগারের ভেতরে কার্যকর করা হয়।
তবে যে অপরাধ সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে, সেক্ষেত্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনকে প্রাদেশিক বিচার বিভাগের প্রধান হেইদার আসিয়াবি জানান, সর্বশেষ ফাঁসি বৃহস্পতিবার ভোরে কুর্দকুই শহরে অপরাধস্থলেই জনসম্মুখে কার্যকর করা হয়েছে।
মিজানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি গত বছরের শেষ দিকে একটি রাইফেল দিয়ে এক দম্পতি ও এক তরুণীকে হত্যা করেছিলেন। এর আগে, মঙ্গলবার দক্ষিণের ফারস প্রদেশে আরেকজনকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়।
তিনি ডাকাতির সময় এক মা ও তার তিন সন্তানকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তার স্ত্রীকেও একই অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তার ফাঁসি কারাগারের ভেতরে পরে কার্যকর হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, চীনের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ইরানে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গত মাসে ইরানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। সংস্থাটি জানায়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ৬১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা একটি উদ্বেগজনক বৃদ্ধি।
ইরান পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানায়, মৃত্যুদণ্ড কেবলমাত্র সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইরানে হত্যা, ধর্ষণ, পরকীয়া এবং কিছু মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ছাড়া ইসলামি আইন অনুযায়ী ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ’ ও ‘পৃথিবীতে দূষণ সৃষ্টি’র অপরাধও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন: