প্রকাশিত:
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪৩
কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে সার্জনদের জন্য নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে। প্লাস্টিক সার্জনদের চিকিৎসাগত দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যেহেতু কসমেটিক সার্জারি কোনো জরুরি চিকিৎসা নয়, তাই কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির জন্য চিকিৎসকরা দায়ী থাকবেন। শরীরের গঠন পরিবর্তনে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অবহেলার কারণে এক নারীর মৃত্যু পর এই রায় দেওয়া হলো।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, চিকিৎসক স্বীকৃত চিকিৎসা নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন এবং যথাযথ যত্ন নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
নতুন রায়ের অধীনে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকিপ্রাপ্ত সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, রোগীর সম্মতি মিললেও সার্জন অস্ত্রোপচার শুরু করতে পারবেন না। যদি রোগীর প্রত্যাশিত উদ্দেশ্যের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাহলে চিকিৎসক দোষি বলে বিবেচিত হবেন।
এই রায় দেন আদালতের প্রশাসনিক বিভাগ, যার সভাপতিত্ব করেন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান আল জাররাহ।
সঙ্গে ছিলেন বিচারক দাউদ ইব্রাহিম আবু আল শাওয়ারেব ও ড. হাসান মোহাম্মদ হাসান হিন্দ। ১ সেপ্টেম্বর এই রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত রায়ে বলেছেন, প্লাস্টিক সার্জনের দায়িত্ব হলো রোগীকে সুস্থ করার জন্য প্রয়োজনীয় যত্ন প্রদানের পাশাপাশি প্লাস্টিক সার্জারির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা। আদালত আরো স্পষ্ট করে বলেছেন, প্লাস্টিক সার্জন অন্যান্য ডাক্তারদের তুলনায় অধিকতর যত্ন প্রদান করতে বাধ্য, কারণ এর উদ্দেশ্য রোগীর শারীরিক ত্রুটি সংশোধন করা, তার জীবনকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া নয়।
এই রায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্লাস্টিক সার্জারির ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। চিকিৎসকরা এখন থেকে শুধুমাত্র রূপ পরিবর্তনের লক্ষ্যেই নয়, বরং যথাযথ চিকিৎসাগত যত্ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনি বাধ্যবাধকতায় পড়বেন। এই সিদ্ধান্ত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন: