প্রকাশিত:
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:০৪
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত মে মাসে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করায় শিল্পাঙ্গনের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, সেই সঙ্গে ক্ষোভও। এর দুই দিন পর কারামুক্ত হন ফারিয়া।
কারাগার থেকে বেরিয়ে তার পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, গত কয়েক দিন ছিল তার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও সংবেদনশীল সময়।
এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় চার মাস। সে বিষয় নিয়ে আর কোনো কথা বলেননি ফারিয়া। হত্যা মামলায় জামিনের দীর্ঘদিন পর গ্রেপ্তার ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
নিউইয়র্ক থেকে প্রচারিত বাংলা ভাষাভাষীদের গণমাধ্যম ‘ঠিকানা’র বিশেষ শো ‘ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’-এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন তিনি।
May be an image of 1 person and jewelry
গ্রেপ্তার ইস্যুতে নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘এ রকম কিছু হবে আশা করিনি। কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। যার জীবন স্কিন কেয়ার, মেকআপ, একটু ঘোরাফেরা, শপিং করা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ভালো খেতে যাওয়া, এই ছোট ছোট জিনিস নিয়ে যে খুশি তার জীবনে এত জটিলতা! কী করব না করব এগুলো নিয়ে যখন চিন্তা করতে হয় তখন ভীষণ হতাশ হই।
’এরপর ফারিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, এটাকেই বড় হওয়া বলে। পরিস্থিতি মানুষকে বড় করে। আমার মনে হয় পুরো ঘটনাতে আমি অবশ্যই মানসিকভাবে বড় হয়েছি। এবং ওইটার (গ্রেপ্তার) পর এটা আমার প্রথম সাক্ষাৎকার। আমি কোথাও কথা বলিনি।
এমন না যে আমি কথা বলতে চাইনি। আমি এখনো কথার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নই।’No photo description available. অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেটা অন্য কারো সঙ্গে হতে পারত। অনেকের সঙ্গেই হয়তো বা হচ্ছে, হবে। আমি এ বিষয়ে জানি না। তবে আমি ভাগ্যবান।
আমার কাজের মাধ্যমে গোটা দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। যাদের দোয়া ভালোবাসার কারণে আমি আজকে আপনার (জায়েদ খান) সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পরিবার, বাবা-মা, ভাই-বোন তাদের সবার দোয়া এবং ভালোবাসার কারণে কঠিন সময় পার করতে পেরেছি।’
হত্যা মামলায় জামিনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লাইট ক্যামেরা, অ্যাকশনের জগতে নুসরাত। অভিনেত্রীর কথায়, ‘তার (গ্রেপ্তার) ঠিক ১০-১৫ দিন পর থেকে আমি আবার কাজ করা শুরু করেছি। তবে পুরো ঘটনাটা আমাকে একটা জিনিস শিখিয়ে দিয়েছে, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। জীবন খুবই অস্থায়ী, অনিশ্চয়তা ভরা। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।
এ জন্য নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে। তুমি যদি সৎ থাকো তাহলে পৃথিবীর কোনো খারাপ শক্তি তোমাকে আটকে রাখতে পারবে না। তোমাকে বিপদের সম্মুখীন করবে কিন্তু সেই বিপদ থেকে সৃষ্টিকর্তা নিজেই তোমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসবেন। এটা আমার জীবন থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা।’
No photo description available.
সব শেষে দর্শক, সংবাদিক এবং শোবিজের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। নুসরাতের কথায়, ‘আমি আমার দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞ কারণ, তারা যেভাবে একসাথে হয়ে আমার জন্য কথা বলেছেন। আমার মিডিয়ার সহকর্মীরা, সাংবাদিক ভাই-বোনেরা, জন্মের পর থেকে এখন অবধি যাদের চিনি প্রত্যেকটা মানুষ আমার জন্য কথা বলেছেন, কেঁদেছেন। শিল্পী নুসরাত ফারিয়া হিসেবে আমার মনে হয় না এর থেকে বড় অর্জন পাওয়ার আছে।’
মন্তব্য করুন: