প্রকাশিত:
৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:১৩
যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এটি হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগে আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি শুধু আল-শারার ওপর নয়, সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাবের ওপরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলছে। এই পদক্ষেপকে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের খসড়া প্রস্তাবটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রস্তাবটি মূলত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কার্যকর করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য আনা হয়েছে। এই প্রস্তাব পাস করতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়টি ভোট প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ—রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—কোনও ভেটো দিতে পারবে না। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রস্তাব আনা হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারা হোয়াইট হাউসে সফর করতে পারেন।
সিরিয়ায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের পর, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এইচটিএস নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বিরোধী বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করা হয়। হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) পূর্বে নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল এবং ২০১৬ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। ২০১৪ সালের মে মাস থেকে এই সংগঠন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসআইএস নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আল-শারা ও আনাস খাত্তাবসহ একাধিক এইচটিএস সদস্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটি চলতি বছর আল-শারার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা একাধিকবার সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস না হলেও, সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের হোয়াইট হাউস সফরের সম্ভাবনা রয়ে গেছে। গত মে মাসে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
জাতিসংঘের তদারককারী পর্যবেক্ষকরা জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, চলতি বছরে আল-কায়েদা ও এইচটিএস-এর মধ্যে কোনো সক্রিয় সম্পর্ক দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে আরও প্রাসঙ্গিক ও কার্যকরী করে তুলছে।
মন্তব্য করুন: