শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

রামগতিতে ইটভাটা বন্ধে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:১৯

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল "রামগতি" উপজেলা। মেঘনা নদী বেষ্টিত এ উপজেলায় সাড়ে ৭ লাখ জনগোষ্ঠীর বসবাস। এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যম হলো কৃষি, জেলে ও ইটভাটায় শ্রম দেওয়া। এই তিনটি পেশার উপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের মানুষগুলো।

জানা যায়, রামগতিতে ৪৪টি  ইটভাটা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে ৭ টি ইটভাটা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ভাটায় কাজ করছে প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত রয়েছে আরো ৫০ হাজার লোক। সব মিলিয়ে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের আয় রোজগারের একমাত্র মাধ্যম গ্রামীণ ইটভাটাগুলো। ইট শিল্পের জোন হিসেবে এ অঞ্চলে গড়ে উঠা ইটভাটাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতিমধ্যে রামগতি উপজেলাকে ইট উৎপাদনকারী জোন হিসেবে ঘোষনা করার দাবী উঠেছে এ পেশার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। তবে ইটভাটার ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় করে এ শিল্পকে সরকারের নীতিমালার আওতায় এনে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার দাবি জানান স্থানীয়রা। একদিকে যেমন ক্ষতি রয়েছে, অন্যদিকে ইটভাটায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকরারও রয়েছে। দুই দিক বিবেচনা করে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কয়েকজন ভাটার মালিক।

গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এসব ইটভাটা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে গেলে ভাটার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। ওই সময় প্রায় দু'ঘন্টা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেন, এ অঞ্চলে বর্তমানে কোন কাজকর্ম নেই। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। এঅবস্থায় তারা ইটভাটায় কাজ করে তাদের সংসার পরিচালনা করছেন। ভাটাগুলো বন্ধ করলে এসব শ্রমিককরা বেকার হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। তাদের জীবিকা নির্বাহের এই মাধ্যমটি কোন ভাবেই বন্ধ করতে দিবেনা শ্রমিকরা। 

তারা আরও বলেন, হঠাৎ করে দেশীয় ইটভাটা বন্ধের সিদ্ধান্তে চরম বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়বে ইটভাটার সাথে জড়িত এ অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক। আবার পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরো প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। ইটভাটা বন্ধ হলে এসব শ্রমিক বেকার হয়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহলও। তাদের দাবি লাখো শ্রমিকের বেকারত্বের দিক বিবেচনা করে ইটকে শিল্প হিসেবে নিয়ে নীতিমালার আওতায় আনা খুবই জরুরি। 

রামগতির চররমিজ ইউনিয়নের আমানত ব্রিকফিল্ডের শ্রমিক আবদুল গনি বলেন, আমরা বছরের প্রায় ৬ মাস এ সকল ফিল্ডে কাজ করি। মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা রক্ষা সহ অভয়াশ্রমের কারণে বছরের প্রায় ৫ মাস বেকার থাকতে হয়। ওই সময়ে আমরা ইটভাটায় কাজ করি। ভাটা বন্ধ হলে আমাদের সংসার চলবে কিভাবে?।

চরআফজল গ্রামের ওহাব ব্রিকসের শ্রমিক আব্দুজ জাহের বলেন,আমাদেরকে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তার পর ইটভাটা বন্ধ করেন। ইটভাটা বন্ধ করলে আমরা খাবো কি? ছেলে মেয়ে মা বাবা নিয়ে কই যাবো?। 

সমাজকর্মী মোঃ রায়হান বলেন, ইটভাটার পজিটিভ ও নেগেটিভ দুই সাইট রয়েছে। হঠাৎ করে এসব ভাটা বন্ধ করলে হাজার হাজার শ্রমিক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বেকারত্বের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে চুরি ডাকাতি ও মাদক সহ সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। বাড়বে অপরাধ প্রবণতা। এবিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে সরকার ও প্রশাসনকে।

এবিষয়ে রামগতি উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ খলিল ও সাধারণ সম্পাদক সানাউল্যাহ বলেন, আমাদের দুজনের মালিকীয় ব্রিকফিল্ডগুলো পরিবেশ বান্ধব ঝিগঝাগ। তবে এ উপজেলায় আরো ৪৪ টি ইটভাটা রয়েছে। হঠাৎ করে ইটভাটা বন্ধ করে দিলে এ শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বেকার হয়ে পড়বে অর্ধলাখ শ্রমিক। এসব বেকার শ্রমিকরা জড়িয়ে পড়বে নানান অপরাধে। তাই আমরা দাবী করছি, ইটভাটাগুলো ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হোক। এবং সরকারের নীতিমালার মধ্যে এনে পরিচালনা করা হউক। এতে মালিক-শ্রমিক উভয়েই পর্যায়ক্রমে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে পারবে। 

লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, মুলত গড়ে উঠা এসব ইটভাটায় হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকারের নির্দেশনাও পালন করতে হবে।

রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণ শ্রমিক রয়েছে। বেকারত্ব ও মানবিক বিষয়টিও তাদের মাথায় রয়েছে। আবার সরকারের নির্দেশনাও মানতে হবে। 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর