প্রকাশিত:
১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:০৩
অনেকের ধারণা বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করলে আকাশচুম্বী বিল আসবে, কিন্তু হিসাবটি আসলে কৌশলের ওপর নির্ভর করে। একটি এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে যে দামে কিনতে হয়, একই পরিমাণ রান্না যদি একটি সাশ্রয়ী ইন্ডাকশন চুলায় করা হয়, তবে বিদ্যুৎ বিল এলপিজির দামের কাছাকাছি বা ক্ষেত্রভেদে কমও হতে পারে
সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও চুলার নব ঘোরালে নীল আগুনের দেখা মিলছে না। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাস আসে কেবল গভীর রাতে। পাইপলাইনের গ্যাসের এ তীব্র সংকটে যখন মানুষ দিশেহারা, তখন বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়েও চড়ামূল্যে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার। একদিকে গ্যাস নেই, অন্যদিকে সিলিন্ডারের আকাশচুম্বী দাম—দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ দ্বিমুখী সংকটের সমাধান খুঁজতে মানুষ এখন বিকল্প প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
১. ইলেকট্রিক ইনডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা
বর্তমান গ্যাস সংকটের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো বৈদ্যুতিক চুলা।
ইনডাকশন কুকার
এটি অত্যন্ত দ্রুত রান্না করে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। তবে এতে নির্দিষ্ট ধরণের চৌম্বকীয় পাত্র লাগে।
ইনফ্রারেড চুলা
এতে যেকোনো পাত্র ব্যবহার করা যায়। গ্যাসের বর্তমান মূল্যের তুলনায় বৈদ্যুতিক চুলায় রান্নার খরচ অনেক ক্ষেত্রে কম পড়ে, বিশেষত যদি পরিকল্পনা করে রান্না করা হয়।
২. রাইস কুকার ও মাল্টি-কুকার অনেকে রাইস কুকার শুধু ভাত রান্নার জন্য ব্যবহার করেন। কিন্তু আধুনিক রাইস কুকারে খিচুড়ি, সবজি সেদ্ধ, এমনকি তরকারিও রান্না করা সম্ভব। এটি একইসঙ্গে সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে।
৩. প্রেসার কুকারের নিয়মিত ব্যবহার যেকোনো রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে অন্তত ৪০ শতাংশ সময় সাশ্রয় হয়। ডাল, মাংস বা শক্ত সবজি রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে গ্যাস বা বিদ্যুৎ যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, খরচ কমে আসবে।
৪. এয়ার ফ্রায়ার
তেল ছাড়া ভাজাভাজির জন্য এয়ার ফ্রায়ার এখন জনপ্রিয়। আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত এ উপকরণটি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও অনেক দ্রুত কাজ শেষ হয়।
খরচ কমাতে রান্নায় কৌশলী হোন
আগে প্রস্তুতি নিন
চুলা জ্বালানোর আগে সব কাটাকুটি ও মশলা গুছিয়ে নিন। চুলা জ্বালিয়ে সবজি কাটলে জ্বালানি অপচয় হয়।
ঢাকনা দিয়ে রান্না
সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করুন। এতে তাপ ভেতরে থাকে আর খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।
ফ্রিজের খাবার স্বাভাবিক করা
ফ্রিজ থেকে খাবার বের করেই চুলায় দেবেন না। অন্তত আধঘণ্টা বাইরে রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে গরম করুন। এতে জ্বালানি কম খরচ হবে।
বিদ্যুৎ খরচ কেমন হবে?
অনেকের ধারণা বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করলে আকাশচুম্বী বিল আসবে, কিন্তু হিসাবটি আসলে কৌশলের ওপর নির্ভর করে। একটি এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে যে দামে কিনতে হয়, একই পরিমাণ রান্না যদি একটি সাশ্রয়ী ইন্ডাকশন চুলায় করা হয়, তবে বিদ্যুৎ বিল এলপিজির দামের কাছাকাছি বা ক্ষেত্রভেদে কমও হতে পারে।
বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সাবধানতা
বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতা বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি:
সঠিক ওয়্যারিং ও প্লাগ পয়েন্ট
বৈদ্যুতিক চুলা সাধারণত এক থেকে দুই হাজার ওয়াটের হয়ে থাকে। তাই সাধারণ টু-পিন প্লাগ বা হালকা মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার না করে থ্রি-পিন গ্লাগ ব্যবহার করা উচিৎ। রান্নার জন্য অবশ্যই ১৫-২০ অ্যাম্পিয়ারের পাওয়ার সকেট ও মানসম্মত কপার তার ব্যবহার করতে হবে।
ভেজা হাত থেকে সাবধান
রান্না করার সময় চুলায় পানি উপচে পড়লে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। তবে চুলা চালু থাকা অবস্থায় বা ভেজা হাতে কখনো কন্ট্রোল প্যানেল বা বডি স্পর্শ করা যাবে না।
ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচল
বৈদ্যুতিক চুলার ভেতরে একটি ফ্যান থাকে যা সার্কিট ঠান্ডা রাখে। চুলাটি এমনভাবে রাখুন যেন এর নিচের বা পেছনের অংশটি দেয়ালের সাথে একদম লেগে না থাকে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন।
ব্যবহারের পর সুইচ বন্ধ করা
রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেইন প্লাগ খুলে ফেলবেন না। প্যানেল থেকে চুলা বন্ধ করার পর ভেতরের ফ্যানটি কিছুক্ষণ চলতে দিন। ফ্যানটি বন্ধ হলে তারপর মেইন সুইচ বন্ধ করুন। এতে চিপ বা সার্কিট নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।
সরকারি ও নীতিগত সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন দ্রুততর করতে হবে যাতে অপচয় কমে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সৌরশক্তি বা বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের (গ্রামাঞ্চলে) ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্তব্য করুন: