প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৩৭
চলন্ত ট্রেনের বন্ধ দরজার বাইরে মাথার ওপর পানির বোতল আর জুসের গামলা নিয়ে ঝুলছিল এক হকার। বারবার অনুনয় করছিল ট্রেনটি থামানোর জন্য। গেট খুলে দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করছিল ওই যুবক। কিন্তু গেট খোলা হচ্ছিল না।
কয়েকজন যাত্রী বাঁচার জন্য ওই যুবককে বলছিল, তুমি মাথার গামলাটা ফেলে দাও, নাহলে পড়ে যাবা। একটা সময় ওই যুবক ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে।
সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে গত দুদিন আগে। এরপর সেটি ক্রমাগত ছড়াতে থাকে।
ট্রেন থেকে ছিটকে পড়া ওই যুবক বেঁচে আছে কি না অনেকে জানার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, ট্রেন থেকে ছিটকে পড়লেও বেঁচে গেছেন ওই যুবক। তার নাম শরীফ বলে জানা গেছে।
গত সোমবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে শ্রীপুর স্টেশন পার হয়ে ভাংগা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনটির গতি কিছুটা কমে যায়। এ সময় হকার শরিফ মাথায় ১০-১২টি পানির বোতলসহ একটি গামলা মাথায় নিয়ে লাফিয়ে ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেলে ঝুলে পড়েন। কিন্তু দরজা লক থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
ট্রেনটির স্টুয়ার্ড সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম জানান, ৩০-৪০ সেকেন্ডের মাঝেই পুরো ঘটনাটি ঘটে যায়। হকার ছেলেটি যেই দরজায় লাফিয়ে উঠেছিল, সেই দরজাটি লক করা ছিল।
এর চাবি অন্য কর্মকর্তার কাছে ছিল। ছেলেটি যখন সাহায্য চাচ্ছিল তখন চাবি আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর ২০-২৫ সেকেন্ড পরেই ট্রেন থেকে পড়ে যায়। পরে তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
হকার শরিফের বাবার নাম হান্নান মিয়া। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায়। কাজের সুবাদে কয়েক বছর ধরে গফরগাঁওয়ে থাকছেন। বুধবার দুপুরে হকার শরিফ বলেন, ‘সবাই ফেসবুকে লিখেছে মারা গেছি, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি। মাথায় ১২ থেকে ১৩টি সেলাই লেগেছে। আমি শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।’
তিনি জানান, ট্রেনের গতি যখন বেড়ে যাচ্ছিল, সে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু দায়িত্বরত স্টাফরা দরজা না খুলে তাকে ধমক দিচ্ছিলেন।
মন্তব্য করুন: