প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:০৯
ব্রাজিলের সাবেক উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড কমানোর জন্য এক অনন্য আইনি পথ বেছে নিয়েছেন। গত বছর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দণ্ডিত হওয়া এই নেতা এখন বই পড়ার মাধ্যমে জেল খাটার মেয়াদ কমানোর সুযোগ পাবেন।
ব্রাজিলের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো কয়েদি একটি করে বই পড়লে তার সাজার মেয়াদ চার দিন করে কমিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক বলসোনারোর আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে এই বিশেষ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ব্রাজিলের এই ব্যতিক্রমী বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
কারাগারের এই শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় বলসোনারোকে যেসব বই পড়তে হবে, তার তালিকাটি বেশ আকর্ষণীয় ও তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিক বিপরীত। তালিকায় এমন সব বই রয়েছে যা আদিবাসীদের অধিকার, বর্ণবাদ, পরিবেশ রক্ষা এবং ব্রাজিলের ১৯৬৪-৮৫ সালের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের নৃশংসতা নিয়ে লেখা।
উল্লেখ্য, বলসোনারো প্রকাশ্যে ওই সামরিক শাসনকে সমর্থন করে আসতেন। বইয়ের তালিকায় রয়েছে আনা মারিয়া গনকালভসের ৯৫০ পৃষ্ঠার কালজয়ী গ্রন্থ ‘উম ডিফিটো ডি কর’ যা মূলত একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্রাজিলের ইতিহাসকে তুলে ধরে। এছাড়া ফিলিপ বান্টিংয়ের শিশুদের জন্য লেখা অলঙ্কৃত বই ‘ডেমোক্রেসি!’ পড়ার জন্যও তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাজার মেয়াদ কমানোর এই সুবিধা পেতে হলে বলসোনারোকে কেবল বই পড়লেই হবে না, বরং প্রতিটি বই পড়ার পর জেল কর্তৃপক্ষের কাছে তার ওপর একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
বলসোনারোর পড়ার তালিকায় লিও তলস্তয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ এবং মিগুয়েল ডি সার্ভান্তিসের ‘ডন কিহোতে’-র মতো এক হাজার পৃষ্ঠার অধিক বিশাল সব ধ্রুপদী সাহিত্যও স্থান পেয়েছে। অথচ এক সময় বলসোনারো গর্ব করে বলেছিলেন, পড়ার সময় না থাকায় গত তিন বছরে তিনি কোনো বই ছোঁননি। এখন নিজের দীর্ঘ কারাদণ্ড কয়েক মাস কমিয়ে আনতে তাকে এসব কঠিন সাহিত্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বর্তমানে ব্রাসিলিয়ার একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত কারাগারে বন্দী থাকা বলসোনারো এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার প্রিয় বই হিসেবে কর্নেল কার্লোস আলবার্তো ব্রিলহান্তে উস্ত্রার একটি বইয়ের নাম বলেছিলেন।
উল্লেখ্য, ওই কর্নেল সামরিক স্বৈরতন্ত্রের সময় শত শত বন্দীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। তবে আদালতের অনুমোদিত তালিকায় উস্ত্রার কোনো বই নেই। এর পরিবর্তে রাখা হয়েছে মার্সেলো রুবেনস পাইভার ‘আই অ্যাম স্টিল হেয়ার’, যা মূলত নির্যাতন কেন্দ্রগুলোতে নিখোঁজ হওয়া বন্দীদের দুর্দশা নিয়ে লেখা। বলসোনারোর আইনজীবীরা আশা করছেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট তার সাজার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।
মন্তব্য করুন: