প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তার শাস্তি পরিবর্তন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে তাদের বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে ‘লঘুদণ্ড’ প্রদান করেছে এনবিআর।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সই করা আদেশে জানানো হয়, আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকার মূল বেতন দুই ধাপ অবনমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্তে কাস্টমস বিভাগের উপকমিশনার সাহাদাত জামিলের ক্ষেত্রেও বেতন দুই ধাপ অবনমন করে বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এনবিআর সূত্র জানায়, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর মহাসচিব ছিলেন। গত বছরের ৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের এক অতিরিক্ত কমিশনারসহ চার কাস্টমস কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং দেশের রাজস্ব কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।
এনবিআরের আদেশে উল্লেখ করা হয়, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, ঢাকায় কর্মরত থাকাকালে ২০২৫ সালের ২১ মে সেহেলা সিদ্দিকা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একাধিক বার্তা পাঠান। এসব বার্তায় তিনি আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ করে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ঢাকার কর্মকর্তাদের রাজস্ব ভবনে উপস্থিত থাকা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।
এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বার্তার মাধ্যমে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পরিত্যাগে উৎসাহিত করেন এবং আন্দোলনের সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
কর্তৃপক্ষের মতে, তার এই কার্যক্রম সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একই বিধিমালার ৩২ বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। পাশাপাশি এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় বর্ণিত ‘অসদাচরণ’ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনা শেষে কর্তৃপক্ষ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(২)(ঘ) বিধি অনুযায়ী শাস্তি হিসেবে সেহেলা সিদ্দিকার বেতন গ্রেড দুই ধাপ অবনমনের সিদ্ধান্ত নেয়। একই আদেশে তার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
মন্তব্য করুন: