শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • চুক্তি বাতিল ৯ সচিবের, ওএসডি ৩ — প্রশাসনে পুনর্বিন্যাসের বার্তা
  • অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় রাষ্ট্রপতি, ‘প্রাসাদবন্দি’ থাকার দাবি
  • বেইজিং-ঢাকা সম্পর্কে নতুন গতি, চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য
  • মহিলা নেত্রীদের নাম আলোচনায়, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা
  • ভোরের পোস্ট, দিনে ভাইরাল: শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া
  • একুশের আবহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শোকপ্রস্তাব নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংসদ কার্যক্রম
  • শূরা বৈঠকে জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি, নির্বাহী পরিষদে ২১ সদস্য
  • বিদায়ী উপদেষ্টাদের অধিকাংশই কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন
  • ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

এপস্টেইন নথি

লিবিয়ার হাজার কোটি ডলার কারা নিতে চেয়েছিল?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:০৫

প্রয়াত কুখ্যাত মার্কিন অর্থলগ্নি কারবারি ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের আরও একটি বিস্ফোরক অধ্যায় প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে, লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবরুদ্ধ বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ছক করেছিলেন এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

নথি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্স (MI6) এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

২০১১ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের কাছে পাঠানো একটি ই-মেইলে পুরো পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিবিরোধী গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই ই-মেইলে দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লিবিয়ার প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই আটকে আছে ৩২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে এপস্টেইনের সহযোগীর ধারণা ছিল, প্রকৃত অঙ্ক এর তিন থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে।

ই-মেইলে আরও বলা হয়, অবরুদ্ধ এই অর্থের মাত্র পাঁচ থেকে দশ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলে এবং তার বিনিময়ে দশ থেকে পঁচিশ শতাংশ কমিশন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অল্প সময়েই বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে উঠতে পারেন।

নথির সবচেয়ে আলোচিত অংশে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার প্রস্তাব। ই-মেইল প্রেরকের দাবি অনুযায়ী, এমআই সিক্স ও মোসাদের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা তথাকথিত ‘চুরি হওয়া’ এই সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

এ ছাড়া গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়া পুনর্গঠনে সম্ভাব্য একশ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনার কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে আরও বলা হয়েছে, এই ছকের সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক আইন সংস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও ছিল। লিবিয়ার বিপুল জ্বালানি সম্পদ এবং শিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আইনি ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের কৌশলও এতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

গাদ্দাফির পতনের ঠিক আগমুহূর্তে লিবিয়ার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি বৈশ্বিক লুণ্ঠনের ছক কষা হয়েছিল, তা এখন এপস্টেইন নথির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর