প্রকাশিত:
১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ। বহু প্রতীক্ষিত এই অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সরকারি দলের দাবি, সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক রীতি। সেই প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতারা এ অবস্থান মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার সাংবিধানিক বৈধতা নেই।
বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, সরকার কেন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, সংসদে সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে। তার দাবি, পুরোনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে তাদের দল। তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সমর্থন দেওয়া হবে, তবে কোনো বিষয়ে অন্ধ সমর্থন দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি চরমে না পৌঁছালে বিষয়গুলো আদালতে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর সংসদের অভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একতরফা শাসন, সীমিত বিরোধী ভূমিকা এবং বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সংসদকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। এবার সংসদে সরকারে রয়েছে বিএনপি এবং বিরোধী দলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি।
রাজনৈতিক মহলের আশা, বিতর্ক থাকলেও এই সংসদ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন: