প্রকাশিত:
১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৫
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা টানা ১৩ দিনে পৌঁছেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের শুরুতেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করে দ্রুত ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা। কিন্তু যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
ইরান দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন নতুন কৌশল গ্রহণের পথে এগিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্ল্যান বি’ নামে পরিচিত এই নতুন কৌশলে দুটি প্রধান দিক রয়েছে।
প্রথমটি হলো ইরানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া। কুর্দি ও বালুচদের মতো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হতে পারে।
দ্বিতীয় কৌশলটি আরও কঠোর। এটি ‘দাহিয়া নীতি’ নামে পরিচিত।
এই নীতির লক্ষ্য হলো শত্রু দেশের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক আঘাত হেনে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করা।
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো এই কৌশলেরই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়; বরং ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
মন্তব্য করুন: